ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুখবর, মিলল এক আশ্চর্য গুড়ের সন্ধান।

দুষ্প্রাপ্য এক  গুড়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। আমরা সবাই খেজুরের গুড় ও আখের গুড়ের নাম শুনেছি, কিন্তু এসবের পাশাপাশি আরেকটি  প্রচলিত গোলেরগুড় রয়েছে। যেটি কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে।  এই গুটি ডায়াবেটিস রোগীরা বিনা দ্বিধায় খেতে পারবেন ও এর কোন সাইড ইফেক্ট নেই।

 যে গাছ থেকে এই আশ্চর্য গুড়টি তৈরি করা হয়

গোল পাতা গোল গাছ থেকে প্রাপ্ত পাতা নাম গোল পাতা।এই পাতাটি দেখতে অনেকটা নারিকেলের পাতার মতো ঘরের চাল বা ছাউনিতে এই পাতাটি ব্যবহার করা হয়। ঘর বানাতে ঘরের ছাউনি দিতে এই পাতার ব্যবহারটি সবার জানা থাকলেও এই পাতা থেকে যে গুড় উৎপাদন করা যায়।সেটি হয়তো সবারই অজানা।দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভাবে এই গাছটি জন্ম নিলেও এই গাছটির চাষ করা হয় পটুয়াখালীতে গাছটি হয়ে থাকে। 

বাংলাদেশের যে অঞ্চলে এই গাছটি জন্ম নেয়

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় প্রায় দুইশত পরিবারের জীবন  জীবিকার উৎস এই গোলগাছ।শীত এলে এখানকার লোকজন এই গোল পাতার গাছ থেকে গুড় সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে দেন।প্রথমে তারা এই গাছগুলো থেকে রস সংগ্রহ করেন এবং তারপর তা থেকে প্রক্রিয়াকরণ  করার মাধ্যমে গুড় তৈরি করেন এবং এাট ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়ার উপযোগী।

যেভাবে এই গুড় টি তৈরি করা হয়

গোল গাছের রস সংগ্রহ করা হয় এর ডগা থেকে। রস সংগ্রহ করার আগে এর ডগা ভালোমতো মেসেজ করতে হয়,এতে ডগা নরম হয় ও রসও খুব দ্রুত বের হয়।গাছ থেকে দিনে দুইবার সংগ্রহ করা হয়।রস ভালোভাবে ছেঁকে ধীরে ধীরে জাল দেওয়ার সময় ভালোভাবে নাড়তে হয়।এর ফলে রসে কোন ময়লা বা বাড়তি কোন ভেজাল জাতীয় জিনিস থাকে না।তারপর শুরু হয় জাল দেওয়ার পালা। সাধারণত গুড তৈরির কারিগররা একটি বিশাল পাত্রে মাটির চুলার উপরে গুড় তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন।তারপর জাল করা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত জাল করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত রসটা ভারী হয়ে না আসছে।খেজুরের রসের তুলনায় এ রসের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি।

প্রায় চার ঘন্টা জাল দেওয়ার পর প্রাপ্ত গুড়  স্বাদে গন্ধে হয় সুস্বাদু এবং তা দেখতেও অনেক সুন্দর।এগুলো মূলত কোন মেডিসিন ব্যবহার করা হয় না বলেই এই গুড়টি নির্দ্বিধায় খাওয়া যায়।এটি মূলত ডায়াবেটিসের রোগীরা নির্দ্বিধায় খেতে পারবেন। এছাড়াও সাধারণ মানুষেরাও খেতে পারবেন।ভেজালমুক্ত এই গুড় প্রাপ্তবয়স্ক থেকে শুরু করে  শিশুরা খেতে পারবে।পায়েস অথবা পিঠা অথবা চা সবকিছু সাথেই গুড়টি ভালোভাবে খেতে পারবে।এই গুড়টি যেহেতু গোলপাতা থেকে অর্থাৎ গোলপাতার গাছ থেকে তৈরি করা হয়,আর এই গাছটি যেহেতু একটি লবণাক্ত অঞ্চলে হয়ে থাকে তাই এগুলো স্বাদটাও কিছুটা লবণাক্ত হয়ে থাকে।এটি খেজুরের গুড় অথবা আখের গুড়ের মতো অতিরিক্ত মিষ্টি নয় তবে এটি তুলনামূলক মিষ্টি হয়ে থাকে যা খাওয়ার উপযোগী। এই গুড় খেলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

কিন্তু চিনি খেলে ডায়াবেটিস রোগটা বেশি হতে পারে, তাই আপনারা এই  গুড়টি খেতে পারেন।পটুয়াখালীর বিভিন্ন গুড় ব্যবসায়ীরা এই গুগটি বাজারে বিক্রি করে থাকেন। অনলাইনে এই গুটির দাম ২০০ থেকে ৩০০ হতে পারে।কিন্তু পটুয়াখালীতে গুড় ব্যবসায়ীরা এটিকে ১০০ টাকা কেজি করে বিক্রি করে থাকে। আপনারা চাইলে পটুয়াখালী থেকে আনিয়ে নিতে পারেন অথবা অনলাইন থেকেও নিতে পারেন।বর্তমানে নদীতে বাধ দেওয়ার কারণে এই গাছগুলোর সংখ্যা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।ফলে দিন দিন আমরা বাংলাদেশের সুস্বাদু এই চমৎকার গুড়টিকে হারিয়ে ফেলছি।

এই গুড়ের ব্যবসায়ীরা কম দামে গুড় বিক্রি করেন এর ফলে অনেকেই এই ব্যবসাটা ছেড়ে দিচ্ছেন।কারণ বাধ দেওয়ার কারণে গাছের সংখ্যা কমে আসছে যার ফলে গুড় তৈরি করে তেমন লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।যার ফলাফল হিসেবে এই গুড়ের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও গুড়ের উৎপাদন কমে আসছে।যেহেতু এই  গুড়টি আমাদের শরীরের জন্য উপকারী ও ডায়াবেটিকস রোগীদের জন্য উপকারী তাই আমরা চাইলেই চিনিযুক্ত গুড় অথবা খেজুর গুড়ের পরিবর্তে গোলের গুড় খেতে পারি।এই গুড়ে যেহেতু কোন কেমিক্যাল অথবা ভেজাল নেই,তাই এই গুড় বিনা দ্বিধায় সেবন করা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *