ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপায়ে ব্রণের দাগ এবং মেছতার দাগ দূর করার উপায়।

ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপায়ে ব্রণের দাগ এবং মেছতার দাগ দূর করার উপায়।

বর্তমান সময়ে প্রায় সবাই  ব্রণ ও মেছতা  এবং ব্রণের দাগ মেছতার দাগ  নিয়ে  ভুগছেন। শুধু কিশোর কিশোরীদেরই নয়, আজকাল তরুণ তরুণী, মধ্য  বয়সী বিভিন্ন নারী ও পুরুষের মধ্যে ব্রণের সমস্যা ও তার দাগের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।ব্রণ  দূর করার চেয়ে ব্রণের দাগ দূর করা বেশ কঠিন। প্রাকৃতিক উপাদান এবং ডাক্তারের সাহায্যে ব্রণ দূর করা যায়।কিন্তু ব্রণের এই জেদি দাগগুলো থেকেই যায়। কিছুতেই যেতে চায় না। কিন্তু নিয়মিত চেষ্টায় ও কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের সহায়তায় এই দাগ ধীরে ধীরে দূর করা সম্ভব। এই উপাদানগুলো প্রাকৃতিক ব্লিচিং হিসেবে কাজ করবে এবং আপনার ত্বক থেকে স্থায়ীভাবে দাগ দূর করবে।প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো। তাই অবশ্যই ত্বকের জন্য নির্দিষ্ট কিছু অভ্যাস ত্যাগ করতে ও ভালো কিছু অভ্যাস তৈরি করতে হবে ।

১। ব্রণে নখ নয়:আপনার ব্রণে ভুলেও নখ লাগাবেন না বা চাপ দিবেন না। চুলকানি হলেও স্পর্শ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন। আর যদি প্রতিকারের জন্য কোন ওষুধ বা কোন কিছু ব্যবহার করেন, তবে অবশ্যই হালকা ভাবে করতে হবে।

২। সূর্যের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন:সূর্যের আলোতে ব্রণের দাগ বসে যায়। তাই চেষ্টা করবেন সূর্যের সংস্পর্শ থেকে নিজেকে দূরে রাখার। কিন্তু বাইরে না গিয়ে তো উপায় নেই। তাই যখনই বাইরে যাবেন, তখন অবশ্যই সানস্ক্রিন ক্রিম লাগিয়ে যাবেন। আর ছাতা, হ্যাট, ওড়না, স্কার্ফ ইত্যাদি দিয়ে নিজের ত্বককে সূর্যের রশ্মি থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করবেন।

ব্রণের দাগ দূর করার প্রাকৃতিক উপায়। 

১। লেবু:

(ক) লেবু একটি প্রাকৃতিক ব্লিচ। লেবুর রসের সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে একটি তুলার বলের সাহায্যে তা মুখে ৩-৪ মিনিট ঘষুন।

(খ) যদি সেনসিটিভ স্কিন হয় তাহলে এর সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে নিবেন। সম্ভব হলে ১ চামচ লেবুর রসের সাথে ২ চামচ ই ক্যাপসুল মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন। ভিটামিন ই ক্যাপসুল ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া একটানা ৭-১০ দিন নিচের ফেসপ্যাক গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

লেবুর ফেসপ্যাক: ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ টেবিল চামচ মধু, ১ টেবিল চামচ আমন্ড তেল, ২ টেবিল চামচ দুধ একসাথে মিশিয়ে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। ব্রন থাকা অবস্থায় দুধ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

২। মধু:

(ক) রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ভালো করে ধুয়ে মধু লাগান। সারারাত তা রেখে সকালে ঘুম থেকে উঠে তা ধুয়ে ফেলুন।

(খ) মধুর সাথে দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে শুধুমাত্র দাগের উপর লাগিয়ে ১ ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। চাইলে সারারাত রাখতে পারেন।উপরের সবগুলো উপাদান ত্বকের দাগ দূরের জন্য বেশ উপকারী। আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী যে উপাদান বেশি ভালো তা ব্যবহার করুন এবং আপনার মূল্যবান ত্বকের যত্ন নিন, বেশি করে পানি পান করুন, সুস্থ থাকুন।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করতে যা করনীয়

১| বেকিং সোডা: বেকিং সোডা মুখের ব্রণ তাড়াতাড়ি সারাতে সাহায্য করেসামান্য গরম পানিতে বেকিং পাউডার মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে সেটি ত্বকে এক ঘন্টা লাগিয়ে রাখুন|

২| পাকা পেঁপে: পাকা পেঁপে ও ব্রন তাড়াতাড়ি সারাতে সাহায্য করেপাকা পেঁপে পেস্ট করে আপনার ত্বকে লাগান। আর দেখুন ব্রণ অল্প দিনের মধ্যে কেমনউধাও হয়ে যায়।

৩| নিম পাতা: নিম পাতা ও ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ বেটে মুখে লাগিয়ে রাখুন এক ঘন্টা।

৪| দই: দই ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে।আর অবশ্যই প্রতিদিন ১০-১২ গ্লাস পানি পান করতে হবে ,তাহলে ব্রন আর হবে না।

ব্রণের দাগ দূর করতে যা করনীয়:

১| অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরা জেল ব্রনের দাগ দূর করার পাশাপাশি আরো অনেক সাহায্য করে| সকালে এবং রাতে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে রাখুন।

২| আলুর রস: আলু টা ব্লেন্ড করে রস বের করে তা মুখে লাগিয়ে রাখুন শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলবেন।

৩| টমেটো: টমেটো গোল করে কেটে দাগের উপর ঘষলে বা টমেটোর রস ইউজ করবেন এতে ব্রনের দাগ দূর করবে পাশাপাশি উজ্জ্বল করবে।আর যে আপুরা ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার জন্য ক্রিম ব্যবহার করতে চান তারা ফোনা প্লাস জেল টা ব্যবহার করতে পারেন।কিছু দিনের মধ্যে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *