কিভাবে মাদকের নগরীতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী একটি জেলা শহর? আসুন জানি আজকের এই লেখনিতে

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল জেলা শহর দিনাজপুর। এই জেলাটির মূলত তিন দিকে ভারতের সীমান্ত।  এখানে অধিকাংশ তরুণ-তরুণীরা নাকি মাদকাসক্ত।আর এখানে হাত বাড়ালেই মাদকের সন্ধান পাওয়া যায়।এখানে মাদক এতটাই সহজলভ্য সবার হাতে পাওয়া যায়, যে কেউ চাইলে মাদক কিনে খেতে বা ব্যবসা শুরু করতে পারে।সাধারণত বিকেল চারটা পর্যন্ত দিনাজপুর শহরটা প্রায়ই শান্তই থাকে। কর্মব্যস্ত মানুষ কর্মে ব্যস্ত থাকে।কিন্তু রাত বাড়ার সাথে সাথে শুরু হয় মাদকের রমরমা ব্যবসা। মাদকাসক্ত তরুণ তরুণীরা বিভিন্ন পার্কে বা বিভিন্ন রাস্তার অলিগলিতে মাদক সেবন শুরু করে দেয়।এখানে অনেকগুলো মাদক নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু অনেক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এসব মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলো মাদক ব্যবসায় জড়িত রয়েছে।

দিনাজপুর শহরে যেসব মাদক গুলো পাওয়া যায়

এখানে বেশিরভাগ ফেনসিডিল,গাঁজা,দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, হিরোইন ,বাবা,এমন অনেক ধরনের নেশাজাত দ্রব্য পাওয়া যায়। এসব দ্রব্যের চাহিদা বারার সাথে সাথে এসব দ্রব্যের ব্যবসার পরিধিও বেড়েছে।  যদিও এর পেছনে কারণ হলো এসব  দ্রব্যের  সহজলভ্যতা। আমাদের তরুণ সমাজের ধ্বংসের পিছনে দায়ী হল এসব মাদকদ্রব্য।আমরা যদি এখনো এটার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করি, তাহলে আমাদের সমাজের একটি অংশ অন্ধকারের দিকে চলে যাবে।

যেভাবে দিনাজপুর শহরটিতে মাদক ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ছে

এলাকার প্রভাবশালী লোকজন এসব ব্যবসার সাথে জড়িত বলে সাধারণ মানুষেরা তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলার বা করার সাহস দেখায় না সবাই এসব প্রভাবশালী লোকজনকে ভয় পায় এসব প্রভাবশালী লোকরা অন্যান্য ব্যবসার আড়ালে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের লাভের একটি অংশ আবার যাচ্ছে তার চেয়েও প্রভাবশালী লোকদের নিকটে এভাবেই চলছে মাদকের ব্যবসা যা আমাদের তরুণ তরুণী ভাইবোনদের জীবনকে করে তুলছে অন্ধকারময় এবং নানা দিক থেকে তা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে যদি সরকার এসব বিষয়ে বিরুদ্ধে এখনই কোন পদক্ষেপ না নেন তাহলে ভবিষ্যতে এটি আরো জোরদার হয়ে আমাদের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।

যেভাবে আমাদের দেশে এসব মাদকদ্রব্য আসছে

মূলত এসব মাদকদ্রব্য আসে বাইরের দেশগুলো থেকে। যেহেতু দিনাজপুর একটি সীমান্তবর্তী জেলা, যার তিন দিকে ভারত সীমান্ত । তাই ধারণা করা যায় যে মাদকদ্রব্য গুলো কোথা থেকে বা কিভাবে আমাদের দেশে আসছে্।এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের নিত্য দিনের পন্যের সাথে লুকিয়ে মাদকদ্রব্য পাচার করছে এবং তা অনায়াসে আমাদের দেশে বিক্রি হচ্ছে ।এভাবেই চলছে আমাদের দেশে রমরমা ব্যবসা ।এসব ব্যবসা সম্পর্কে ভারতের নিরাপত্তা প্রহরীরা, বিজেপি সদস্যরা কেউ তেমন সচেতন নয়। তাদের নাগালের বাইরে চলে এসব ব্যবসা যদিও তারা অনেক পাহারা এমনকি নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য অনেক গার্ড সেনাবাহিনী ইত্যাদি কে নিযুক্ত করেছেন।

তবুও তাদের চোখের আড়ালে এসব মাদকদ্রব্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাচার হচ্ছে। এমনকি এগুলো বিক্রি হচ্ছে খোলাখুলি ভাবে। যারা এসব মাদকদ্রব্য বিক্রি করেন তাদের কোন ভয় নেই ।কারণ তাদের মাথার উপরে প্রভাবশালী লোকজন রয়েছে। যারা তাদেরকে আবার জেল থেকে বের করে নিয়ে আসবে এবং তারপর আবার শুরু হবে এই মাদকের ব্যবসা। আমাদের সরকারের উচিত এসব পাচারকার্য ও ব্যবসাকে গোড়া থেকে তুলে ফেলা ।এর জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অবশ্যই দেশে পুলিশের শাসন ও সীমান্তে সেনাবাহিনীদের শাসন জোরদার করতে হবে ।যাতে এসব পণ্য দেশে সচরাচর না পাওয়া যায় ও সীমান্ত দিয়ে দেশের ভিতরে না আসে। এসব কার্যকলাপের মাধ্যমে দেশে মাদকদ্রব্যের ব্যবসার বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হবে বলে আমার ধারণা ।যদিও আমার ধারণা কতটা  সঠিক তা বলা যায় না। কারণ আমাদের দেশের অপরাধীরা যেকোন কৌশলে এসব মাদক ব্যবসা ও নানা ধরনের অপরাধ পাচারকার্য চালিয়ে যাবেই।  তাও সরকারকে এসব বিষয়ে নজর রাখতে হবে এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে কঠোর হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *