আরিফ আজাদের বই ২০২৩ । আজাদের জীবন পরিবর্তন করা বাণী বা উক্তি

আরিফ আজাদ একজন বাংলাদেশী লেখক, যার বই অনলাইন এবং অফলাইন দুই জায়গা তেই বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করার সময় থেকেই লেখা লেখির হাতেখড়ি। তুলনামূলক তত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করতে বেশ পছন্দ করেন তিনি।প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ এর লেখক হিসেবে তিনি বহুল পরিচিত । অমর একুশে বইমেলা ২০১৯ এ best seller হিসেবে নির্বাচিত হোন আরিফ আজাদ।

লেখক আরিফ আজাদ ১৯৯০ সালের ৭ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মাধ্যমিক পাশ করেন চট্টগ্রাম জেলা স্কুল থেকে। একটি সরকারি কলেজ থেকে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন। এবং এখান থেকেই উচ্চ শিক্ষা শেষ করেন।
তরুণ এই লেখক একাদশ শ্রেণিতে থাকাকালীন লেখা লিখি শুরু করেন। তাঁর লেখা প্রথম বই প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২০১৭ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হলে এক ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তারপর থেকে নিয়মিত প্রকাশ হতে থাকে আরিফ আজাদ এর অন্যান্য বই গুলো।
লেখা লিখি carrier এর শুরু থেকেই আরিফ আজাদ এর বই সমূহ পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি করে।

তাঁর ব্যক্তিগত ছবি তিনি ইন্টারনেটে share করেন না তবে বইমেলা তে তিনি মাঝে মধ্যে এসেছেন। তখন কিছু মানুষের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে, তিনি তাদের সাথে ও ছবি তুলেন নি।তার ফেসবুক পেজে তার ব্যক্তিগত ধারণা শেয়ার করে থাকেন। তিনি আস সাদিক ফাউন্ডেশন নামে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
উল্লেখ যোগ্য বই সমূহ :

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ -১ ২০১৭ সালে বইমেলায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ২০১৭ সালের বইমেলায় এটি ছিল সর্বাধিক বিক্রিত বই।
প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ -২ : প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ -১ এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের বইমেলায় প্রথম প্রকাশিত হয় প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২।প্রকাশের প্রপ্রথম দিনই বইটির সকল প্রিন্ট বিক্রি হয়ে যায়। মাত্র তিন দিনে ৮০০০ বই বিক্রি হয়।
বেলা ফুরাবার আগে: ২০২০ সালে প্রকাশিত হয় বেলা ফুরাবার আগে।এটি আরিফ আজাদ এর চতুর্থ মৌলিক বই।
আরজ আলী সমীপে:আরিফ আজাদ এর একটি মৌলিক গ্রন্থ হচ্ছে আরজ আলী সমীপে।

আরিফ আজাদ এর উক্তি :

১। চেহারা দেখালে যদি অন্তত একটি সওয়াব পাওয়া যেত, বিশ্বাস করুন আমি প্রতিদিন কম করে হলেও একটি ছবি ফেসবুকে আপলোড দিতাম।
২। জীবনে আপনি একজন ফেরেশতা কে দেখতে পাবেন, তিনি হচ্ছেন মালাকুলমাউত,মৃত্যুর ফেরেশতা।
৩। ফযর ছেড়ে দিলেন তো হেরে গেলেন।
৪। বহুমুখী একটি জাতি তৈরি হোক, আমি এটাই চাই।
৫। মানুষের চোখে নিজেকে মাপতে হয় না, নিজেকে মাপতে হয় আসমানের আয়নায়।
কারোর কটু কথা, কটু বাক্য এবং অপমানের বিপরীতে সবর এর চাইতে উত্তম জবাব আর কিছু হয় না।
৬। কারো প্রতি যেকোনো আচরণের পূর্বে ভাবুন যে এই আচরণ পরবর্তীতে তার মনে আপনার জন্য শ্রদ্ধার উদ্রেক করবে, নাকি আপনার নাম শুনলেই তার অন্তর ভরে উঠবে প্রবল ঘৃণায়।
৭। কবরস্থানে গিয়ে দেখুন আপনার কতো পরিচিতি মুখ সেখানকার চিরস্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গেছে। তাদের কবর গুলো জানাচ্ছে একদিন ওই মাটির তলায় আপনাকে ও যেতে হবে।
৮। ধুকপুক ধুকপুক শব্দ বেজে চলছে আমার হৃদপিণ্ড। এর অর্থ দুটি (১)আমি এখনো বেঁচে আছি এব (২) একদিন অবশ্যই মারা যাবো।
৯। একটা জীবন অবলীলায় আর অবহেলায় কেটে যাবে ভুল আর ভ্রান্তির বেড়াজালে।
একটা জীবন আমগ্ন ডুবে যাবে এমনটা হতে দেওয়া যায় না।
১০। কারো ওপর খুব রাগ করতে ইচ্ছে করলে তার এমন গুণ বা কাজের কথা ভাবুন যা আপনাকে একদিন দারুণ উৎফুল্ল ও খুশি করেছিল। দেখবেন তাঁর ব্যাপারে মনে ঝেকে বসা সমস্ত রাগ দূর হয়ে যাবে।
১১। সেই কান্নার চাইতে সুন্দর আর কিছু নেই যেই কান্না আনন্দ আর সবর থেকে আসে।

গত দুই বছর আগে ও নীল সাদার ভার্চুয়াল জগতটা আমার কাছে ছিল সপ্তাহে আট দশটা সেলফি আপ দেওয়া এবং এর ওর সাথে চ্যাটে ব্যস্ত থাকা। বই পড়াটা তখন একদমই ভালো লাগতো না আমার। নিছক সময় অপচয় মনে হতো। কিন্তু আমার সেই ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দিল আরিফ আজাদ ভাই এর প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ। কাকতালীয় ভাবেই বইটি হাতে আসে।প্রথম দুই তিন পৃষ্ঠা পড়ার পরেই নেশা ধরে যায়। মাত্র দুই দিনেই শেষ করেছিলাম প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ১এবং ২। একজন মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও মাঝে মধ্যে মনের মধ্যে উদ্ভট চিন্তা ভাবনা আসতো। কিন্তু কোনো কাউকে জিজ্ঞেস করা বা প্রশ্ন করার সাহস হয় নি। আলহামদুলিল্লাহ, সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ। সাদা পাতায় কালির ছোঁয়ায় আরিফ আজাদ যে প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ দিয়ে নাস্তিক এবং ইসলাম বিদ্বেষীদের নাস্তানাবুদ করেছে, সেই প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ই আমাকে বিভ্রান্তির ধূম্রকূন্জ থেকে বাচিয়ে নিয়েছে।

সেই থেকে টুকটাক বই পড়া শুরু করি। নিজের ফেসবুকের ধরন টাও বদলে ফেলি। লিখা লিখির ব্যাপারে জানি যথেষ্ট কাচা, তবুও টুকটাক লিখার চেষ্টা করি। তবে আমি অধম লিখালিখির জগতে পুরো কৃতিত্ব আরিফ আজাদ ভাই এর। কেননা তার সুনিপুণ লিখা বরাবরই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আল্লাহ তা’য়ালা রহমতে যদি আমার বই বের হয়, তবে সেই বই এর প্রথম কপি প্রিয় লেখক কে হাদিয়া পাঠাবো ইনশাআল্লাহ।

রকমারি ডট কম এর বেস্ট সেলারের তালিকায় ১ নম্বরে দেখে এতো বেশি খুশি হয়েছি যা বলে বুঝানোর মতো শব্দ আমার অভিধানে নেই।

এশার সালাত আদায় শেষে মনের সকল আকুতি ঠেলে মহান রবের দরবারে দুহাত তুলে দোয়া করলাম – হে প্রভূ, প্রিয় আরিফ আজাদ ভাই কে সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। তাঁর মস্তিষ্কের গভীরতা বাড়িয়ে দিন এবং দীনের জন্য তাকে কবুল করে নিন। সেই সাথে নাস্তিকদের দাঁত ভাঙা জবাব দিতে লেখা লিখির জগতে আরো কয়েক শত আরিফ আজাদ কে কবুল করে নিন।

আরিফ আজাদ কে নিয়ে এই কথা গুলো শুধু আমার একার নয়। আমার বিশ্বাস এই কথা গুলো হাজার হাজার মানুষের মনের কথা। উনাকে নিয়ে কিছু বলার বিন্দু মাত্র যোগ্যতা আমার নেই, তবুও উনাকে নিয়ে কিছু বলার ব্যর্থ চেষ্টা। কারণ তার সম্পর্কে জানার আগ্রহ নেই এমন মানুষ পাওয়া দুষপ্রাপ্য। তার লিখার মধ্যে তাকে জানার আগ্রহ অনেক বাড়ে। তবে প্রিয় এই মানুষ টি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য আমাদের জানা নেই। তারপর ও যা জানা আছে তাই তুলে ধরার চেষ্টা করবো আপনাদের সামনে।

যুক্তি কিংবা মনোন কিংবা ইসলামের সঠিক আকিদা এইসব কিছু তার লেখা কে দিয়েছে অন্য মাত্রা। আরিফ আজাদ কে বর্ণনা করতে গিয়ে আরেক সাহিত্যিক ডা. সামছুল আরেফিন বলেছেন “আরিফ আজাদ একজন জীবন্ত আলোক বর্তীকা। আর গার্ডিয়ান প্রকাশনী আরিফ আজাদ এর পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন – তিনি বিশ্বাস নিয়ে লিখেন,অবিশ্বাসের আয়না চূর্ণ বিচূর্ণ করেন।

আরিফ আজাদ এর বই মানে একুশে বইমেলার best seller। এতোটাই জনপ্রিয় এই লেখক। বর্তমান সময়ে চারিদিকের এই পাপাচারে, ঠিকানা হারিয়ে ফেলা যুবকদের জন্য আরিফ আজাদ যেনো এক স্বস্তির নাম, আশার আলো। তার এই ইসলামি সাহিত্য গুলো পড়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে যুব সমাজ। তাঁর বইগুলো কিনতে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলে এই যুবকরা। যা ইসলামি সাহিত্যের জন্য অনেক স্বস্তির একটা দিক। প্রিয় লেখক কে না দেখেও আল্লাহর প্রতি অবিরাম ভালোবাসা প্রকাশ করছে এই যুবকরা। যে ভালোবাসা প্রকাশ পায় সমকালীন বা গার্ডিয়ান প্রকাশনীর stall এর সামনে, আবার কখনো বা রকমারির ওয়েব পেজে।

এছাড়াও আরিফ আজাদ বলেন নামের গ্রুপ টা তো আছেই।তাইতো বলাই যায় সময়ের এই ক্রান্তিলগ্নে আরিফ আজাদ যেনো আলোর বৈঠা হাতে। তারপরও তার বই বিক্রিতে নানা বাধা আসছে। শুরুতে চট্টগ্রামের বইমেলার কোনো stall এ উনার বই রাখা হয় নি।আবার বাংলা একাডেমির বই গুলোতে ও তার বই বিক্রির বাধা আসে। কেনো এই বাধা? কেনো এই stall গুলো তার বই রাখতে চায় না? স্বভাবতই উনার বই বেশি বিক্রি হওয়ার কারণে stall গুলোতে উনার বই বেশি রাখার কথা। বাধা আসে কোন অদৃশ্য শক্তি থেকে? উনি ইসলামিক ধাঁচের লেখা লিখে এটাই কি মূল বাধা? কেনো? উনি কি উগ্র হওয়ার জন্য শিক্ষার্থী কে অনুপ্রানিত করে? উনি কি ধর্মের নামে অধর্মের কোনো কথা বলে? উনি কি কুরআন হাদিসের অপব্যাখ্যা করে? উনি কি ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রচার করে? যদি না বলে না করে তাহলে কেনো এই বাধা?

সংবিধানে সকল ধর্মের সমান স্বাধীনতার কথা বলা আছে।তাহলে কেউ যদি ইসলামিক ধাঁচের লেখা লিখে তাহলে সুশীলদের এতো চুলকানি হয় কেনো? নাকি উনার বই বেশি বিক্রি হওয়ার কারণে সুশীলদের ভাত মেরেছে? তাদের এটা সহ্য হয় না। আর উনার লেখা তো কোনো মিডিয়া বা পোর্টাল প্রচার করে না। উনাকে নিয়ে পত্রিকা তে ফিচার লেখা হয় না।টেলিভিশনে লাইভ হয় না। উনি নিজেও অন্যদের মতো ফেসবুকে লাইভ করে না। তাহলে উনার বই বেশি বিক্রি হওয়ার মূল রহস্য কি? এটিও আসলে ভেবে দেখা দরকার।

বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে হিন্দুভাই দের অধিকার কাছে তাদের সংস্কৃতি তুলে ধরার। তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি নিয়ে লেখা লিখি ও প্রচার করার। তেমনই বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মীয়দের অধিকার আছে তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি প্রচার করার। কোনো বাধা আসা তাদের কাম্য নয়। তেমনি ইসলামি মূল্যবোধ নিয়ে লিখলে সেক্ষেত্রে ও বাধা আসা ঠিক না।
কেনো ধর্মই সন্ত্রাস, অন্যায় জবরদখল এর কথা বলে না। যে যার ধর্ম চর্চা করবে, সংস্কৃতি নিয়ে চর্চা করার স্বাধীনতা পাবে, এটাইতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।

আরিফ আজাদ কে নিয়ে বলা যেকোনো কথাই অনেক কম মনে হবে। তিনি অনেক বড় মাপের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *