আগামী নির্বাচনে জামায়াতের ২৬ অগ্রাধিকার: বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ‘চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রকাশিত এই ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা, জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের এক আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে ।
শাসন ও রাজনৈতিক সংস্কার
ইশতেহারে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ এবং সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে । ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমিয়ে সংসদকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে । এছাড়া, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে ।
নির্বাচনী ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সুসংহত করার পাশাপাশি নির্বাচনে ‘সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ (পিআর) পদ্ধতি প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি । নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সকল ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে ।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
জামায়াত তাদের ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে । সরকারি সব দপ্তরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, সেবাসমূহ ডিজিটালাইজ করা এবং দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে । এছাড়া সরকারি আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ নামক মোবাইল অ্যাপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে দলটির ।
জুলাই বিপ্লব ও তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়ন
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে । রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে মন্ত্রিসভায় যোগ্য তরুণ-তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে । সরকারি চাকরিতে আবেদনের ফি বাতিল এবং এক বছরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ।
অর্থনীতি ও জনকল্যাণ
আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং কৃষি বিপ্লবের লক্ষ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে 。 দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জামায়াতে ইসলামী 。
সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে । এছাড়া, বিগত সময়ের গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচারের মাধ্যমে মানবাধিকার সুসংহত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে ইশতেহারে ।
উপসংহার: জামায়াতে ইসলামীর এই ইশতেহারকে একটি ‘পরিকল্পিত ও বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যা আধুনিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি । দলটি আশা প্রকাশ করেছে যে, এই রূপরেখা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি নিরাপদ, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।




