অর্শ বা পাইলস কী? পাইলস হলে কী কী করণীয়

অর্শ বা পাইলস কী/পাইলস হলে কী কী করণীয়/অর্শ বা পাইলস রোগের কারণ এবং পাইলস রোগ থেকে প্রতিকার পাওয়ার উপায়।

অর্শ বা পাইলস: 

মানবদেহের খুবই sensitive অঙ্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম একটা অঙ্গ হলো Rectum বা মলদ্বার। এই মলদ্বার এর একটা রোগ হলো অর্শ বা পাইলস। এটি খুবই যন্ত্রণা দায়ক একটি রোগ। এ রোগ হলে মলত্যাগে অত্যন্ত কষ্ট হয় এমনকি রোগী ঠিকমত বসে কাজ ও করতে পারে না। অতিরিক্ত বসা কাজ, দীর্ঘদিন পুরোনো ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য পাইলসের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে পাইলস বা অর্শ হতে পারে। এলোপ্যাথিক পদ্ধতিতে অপারেশন এর মাধ্যমে পাইলসের চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু হোমিওপ্যাথিক বিধান মতে ঔষধ নির্বাচন করতে পারলে বিনা অপারেশনে অর্শরোগ ভালো হয়।

অর্শ বা পাইলস বর্তমানে খুবই কমন একটা রোগ। অলস জীবন-যাপন বা শারীরিক পরিশ্রম কম করা ই যার প্রধান কারণ। অধিকাংশ মানুষ ই এ রোগের কথা স্বীকার করতে লজ্জা পায়, যা একেবারে ই ঠিক নয়। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে খুব দ্রুত ই এরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আজকে এ রোগ নিয়ে আরও বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

অর্শ বা পাইলস কী?

অর্শ মলদ্বার এর একটি রোগ। মলদ্বারের ভিতর বা বাইরের শীরা স্ফীত, চর্ম শক্ত এবং সংকুচিত হয়ে ছোট ছোট মটর দানার মত বলি উৎপন্ন হয় একে অর্শবলি বা পাইলস বলে।  এই অর্শবলি কে তিনভাগে ভাগ করা হয়।

  1. বহির্বলি
  2. অন্তর বলি
  3. মিশ্রিত বলি।

অর্শ বা পাইলস এর কারণ : 

  1. শারিরীক পরিশ্রম কম করা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এর অন্যতম কারণ। 
  2. অতিরিক্ত উগ্র জাতীয় ঔষধ, দীর্ঘদিন জোলাপ ইত্যাদি ব্যবহার করলে।
  3. লিভারের রক্তাধিক্য বা লিভার সিরোসিস থাকলে।
  4. পুরাতন আমাশয়, পুরাতন উদরাময় বা যে কোনো পুরাতন রোগের কারণে পাইলস হতে পারে। 
  5. অতিরিক্ত মশলা, তেল, ঘী দিয়ে রান্না করা খাবার দীর্ঘদিন ধরে খওয়া।
  6. প্রস্টেট গ্রন্থি বা মূত্রনালীর কোনো রোগের কারণে কুন্থন দিয়ে  প্রস্রাব করার কারণে ও এই অর্শ বা পাইলস হতে পারে।

পাইলসের লক্ষণ : অর্শ খুবই কষ্টকর এবং যন্ত্রণাদায়ক একটি রোগ। এর লক্ষণ –

  1. মলদ্বারে অসংখ্য বলি বা মাংসপিণ্ড সৃষ্টি হয় এবং তাতে কখনো কখনো চুলকায় এবং জ্বালা পোড়া করে।
  2. মলদ্বারে কাটা ফোঁটার মত যন্ত্রণা ও থাকে।
  3. মলত্যাগের সময় রক্তস্রাব হতে পারে। পায়খানা নরম হলে সাধারণত রক্ত পড়ে না কিন্তু কষা হলে রক্ত পড়তে পারে।
  4. মলদ্বারে ভারবোধ। মনেহয় কি যেন একটা আটকে আছে।
  5. অতিরিক্ত রক্তস্রাব এর কারণে দুর্বলতা,রক্তশূন্যতা, হাত,পা, চোখের পাতা ফোলা এমনকি মাথা যন্ত্রণা ও হতে পারে। 
  6. মলদ্বারে ফোড়া, নালীঘা এবং তা থেকে সেপটিক ও হতে পারে।

মোটামুটি এউ লক্ষন গুলো পেলেই আমরা বুঝতে পারি রোগীর পাইলস হয়েছে। 

পথ্য ও বর‍্যবস্হাপনা : রোগীর পথ্যের দিকে যথেষ্ট নজর দিতে হবে। দুধ ও মাখন, পেঁপে, পেয়ারা আম, কমলালেবু, আখ ইত্যাদি দেওয়া যায়। পুরাতন চালের ভাত, যব, পটল, শাক, ওল, কচু, লেবু, আমলকী, বেল,  কৎমবেল, কৎবেল,  ঘোল, কুমড়ো, আপেল, কলা, কিসমিস ইত্যাদি দেওয়া যায়। বাসী, পচা, তেলে ভাজা, চা কফি, মদ জাতীয় পানীয় একেবারে নিষিদ্ধ । সবরকম উত্তেজক বা গরম মশলা, ঝাল যুক্ত খাবার খাওয়া নিষেধ। পায়খানা নরম করপ এমন খবার যেমন ইসব গুলের ভুষি, খোসা ছাড়ানো তিল ও মিছরী ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। 

পাইলসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা : একোনাইট, আর্সেনিক, কলিনসোনিয়া, হ্যামামেলিস, হাইড্রাসটিস, নাক্স ভমিকা, র‍্যাটেনহিয়া, মিলিফোলিয়া, এলোজ, নাট্রিক এসিড ইত্যাদি ঔষধ লক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োগ করা যেতে পারে। 

Haemorrhoids,Piles (পাইলস,  অর্শ,  গেজ) :-পাইলস  বা  অর্শ  রোগের  আসলে  কোন  সুনির্দিষ্ট  সংজ্ঞা  নাই।  মোটকথা  পায়খানার  রাস্তা  ফোলে  যাওয়া,  ব্যথা  করা,  রক্ত  পড়া,  ফেটে  যাওয়া,  মাংসখন্ড  বেরিয়ে  পড়া  ইত্যাদিকে  একত্রে  পাইলস  বা  অর্শ  রোগ  বলে।  ইহার  মতো  কষ্টদায়ক  রোগ  মনে  হয়  মানুষের  জীবনে  কমই  আছে।  একে  তো  পায়খানার  সময়  ব্যথার  চোটে  জান  বেরিয়ে  যাওয়ার  জোগার ;  তারপর  আবার  বলা  নেই  কওয়া  নেই  হঠাৎ  ভদ্র  সমাজে  রক্তক্ষরণ  হয়ে  কাপড়-চোপড়  নষ্ট  হয়ে  ইজ্জত  নিয়ে  টানাটানি।  পাইলস  হওয়ার  মূল  কারণ  হলো  দীর্ঘদিন  কোষ্টকাঠিন্য  বা  পায়খানা  শক্ত  থাকা।  পাইলসের  আরেকটি  কারণ  হলো  তলপেটের  ভেতরে  থাকা  রক্তনালীর  গঠণগত  ক্রটি (Portal  congestion)।  সে  যাক,  সামান্য  কিছু  নিয়ম-কানুন  মেনে  চললে (যেমন  পায়খানা  নরম  রাখা / কোষ্টকাঠিন্য  থেকে  দূরে  থাকা) এবং  দু’চার’ছ  মাস  হোমিও  ঔষধ  খেলে  পাইলস  পুরোপুরি  সেরে  যায় (তা  যত  মারাত্মক  পাইলসই  হোক  না  কেন)।  তবে  যাদের  পাইলসের  টেনডেনসি  আছে,  তাদেরকে  সারাজীবনই  সতর্ক  থাকতে  হবে  যাতে  পায়খানা  কোন  অবস্থাতেই  শক্ত  হতে  না  পারে।  অনেকেই  না  জানার  কারণে  অপারেশান  করে  পাইলস  সারাতে  চেষ্টা  করেন  কিন্তু  এতে  আপনি  নির্ঘাত  পায়খানার  রাস্তায়  ক্যানসারে  আক্রান্ত  হবেন।

পাইলসের  চিকিৎসায়  প্রথম  কথা  হলো  যদি  কোষ্টকাঠিন্য  নিয়ন্ত্রণে  রাখতে  পারেন  অর্থাৎ  পায়খানা  নরম  রাখতে  পারেন,  তবে  ৯৯%  পাইলস  বিনা  ঔষধেই  সেরে  যাবে।  আর  কোষ্টকাঠিন্য  চিরতরে  নির্মূল  করার  জন্য  কোষ্টকাঠিন্য  অধ্যায়ে  আলোচিত  ঔষধগুলি  প্রয়োগ  করবেন।

অনেক  হোমিও  চিকিৎসা  বিজ্ঞানী  পাইলসের  রোগীদেরকে  সকালে  Sulphur  এবং  সন্ধ্যায়  Nux  vomica  ঔষধ  দুইটি  খেতে  দিতেন।  সাধারণত  ৩০  শক্তিতে  কয়েক  মাস  খেলে  অধিকাংশ  পাইলস  ভালো  হয়ে  যায়।  অন্য  কোন  ঔষধের  প্রয়োজন  হয়  না।  এই  ঔষধ  দুটি  সরাসরি  পাইলস  নিরাময়  করে  না  বরং  কোষ্টকাঠিন্য  সারানোর  মাধ্যমে  এরা  পাইলস  নির্মূল  করে  থাকে।  এমনকি  কোন  কোন  চিকিৎসাবিজ্ঞানী  এমনও  বলেছেন  যে,  সালফার,  নাক্স  ভমিকা  এবং  থুজা  মাত্র  এই  তিনটি  ঔষধ  দিয়ে  পৃথিবীর  এমন  কোন  রোগ  নাই  যা  সারানো  যায়  না (সুবহানাল্লাহ !)।  এই  কথার  রহস্য  কি ?  আসলে  আমাদের  শরীরে  যত  রকমের  বিষ  তৈরী  হয়  এবং  যত  রকমের  বিষ  বাইরে  থেকে  ঢুকে,  তাদের  শরীর  থেকে  বের  করার  সবচেয়ে  বড়  মাধ্যম  হলো  পায়খানা।  ঢাকা  শহরের  সমস্ত  ড্রেন  এবং  সোয়ারেজ  লাইনগুলি  যদি  সাতদিনের  জন্য  বন্ধ  করে  দিলে  যেমন  সমস্ত  শহরের  পরিবেশ  দূষিত-বিষাক্ত  হয়ে  অগণিত  মারাত্মক  মারাত্মক  রোগব্যাধি  ছড়িয়ে  পড়বে,  তেমনি  যে-সব  মানুষের  নিয়মিত  পায়খানা  হয়  না  তাদেরও  ধীরে  ধীরে  শরীর  বিষাক্ত  হয়ে  (হৃদরোগ-কিডনীরোগ-স্নায়ুরোগ-ক্যানসার-ডায়াবেটিস  ইত্যাদি)  মারাত্মক  মারাত্মক  রোগ  পয়দা  হতে  থাকে।  আর  এই  তিনটি  ঔষধই  মোটামুটি  কোষ্টকাঠিন্যের  শ্রেষ্ট  ঔষধ। যাদের  কোষ্টকাঠিন্য  খুবই  জটিল,  সারতেই  চায়  না,  তারা  অবশ্যই  কোষ্টকাঠিন্য  অধ্যায়ে  বর্ণিত  ঔষধগুলো  লক্ষণ  অনুযায়ী  প্রয়োগ  করবেন।

Calendula  officinalis : পায়খানার  রাস্তা  যদি  মাত্রাতিরিক্ত  ফোলে  যায়,  ইনফেকশান  হয়ে  যায়,  ঘায়ের  মতো  হয়ে  যায়,  ব্যথায়  টনটন  করতে  থাকে,  তবে  ক্যালেন্ডুলা  ঔষধটি  নিম্নশক্তিতে (মাদার  টিংচার)  কিছু  পানির  সাথে  মিশিয়ে  তাতে  তুলা  ভিজিয়ে  সেখানে  দু’চার  ঘন্টা  পরপর  প্রয়োগ  করুন।  দু’চার  ঘণ্টা  পরপর  বা  অথবা  আরো  ঘনঘন  প্রয়োগ  করুন।  যত  মারাত্মক  ইনফেকশান  বা  ফোলা-ব্যথা-আলসার  হোক  না  কেন,  দেখবেন  দুয়েক  দিনের  মধ্যে  সব  চলে  গেছে।  এলোপ্যাথিতে  যেমন  ডেটল,  স্যাভলন,  হেক্সিসল  ইত্যাদি  আছে,  তেমনি  হোমিওপ্যাথিতে  আছে  ক্যালেন্ডুলা।  তবে  ক্যালেন্ডুলার  ক্ষমতা  তুলনাবিহীন।  আক্রান্ত  স্থানে  লাগানোর  পাশাপাশি  দশ / বিশ  ফোটা  করে  খেতেও  পারেন।  অথবা  লক্ষণ  মতে  অন্য  কোন  ঔষধ  খান।  পাশাপাশি  যে-কোন  ধরনের  কাটা-ছেড়া-ঘা-ইনফেকশানে  ক্যালেন্ডুলার  সাহায্য  নিতে  ভুলবেন  না।

পাইলস  থেকে  উজ্জল  লাল  রঙের  রক্তপাত  হলে  Millefolium ঔষধটিদশ/বিশ  মিনিট  পরপর  খেতে  থাকুন  যতক্ষণ  না  রক্তপাত  বন্ধ  হয়।অন্যদিকে  কালো / কালচে  রক্তপাত  হলে  Hamamelis  Virginicaঔষধটি  দশ/বিশ  মিনিট  পরপর  খেতে  থাকুন।  পায়খানার  রাস্তা  থেকে  অতিরিক্ত  রক্তক্ষরণের  ফলে  শরীর  দুরবল  হয়ে  পড়লে,  রক্তশূণ্যতা  দেখা  দিলে  China  officinalis  অথবা  Acidum  Phosphoricum  ঔষধটি  খান।  পাশাপাশি  ভিটামিন  জাতীয়  অন্যান্য  ঔষধগুলিও  খেতে  পারেন।

Aesculu  Hippocastanum :  এসকিউলাসকে  বলা  যায়  সবচেয়ে  সেরা  পাইলসের  ঔষধ।  এই  ঔষধের  কাজের  মূল  কেন্দ্র  হইল  তলপেটের  যন্ত্রপাতি।  ইহার  প্রধান  প্রধান  লক্ষণ  হলো  কোষ্টকাঠিন্য (পায়খানার  সাইজ  বড়  বড়  এবং  শক্ত),  রক্তক্ষরণযুক্ত  অথবা  রক্তক্ষরণবিহীন  পাইলস,  পায়খানার  রাস্তায়  কেহ  আলপিন  দিয়ে  খোচা  মারছে  এমন  ব্যথা,  পায়খানার  রাস্তা  শুকনা  শুকনা  লাগা,  তলপেটে  দুরবলতা,  পায়ে  অবশ  অবশ  ভাব,  হাটঁলে  রোগের  মাত্রা  বেড়ে  যায়,  রোগী  খুবই  বদমেজাজি  ইত্যাদি।  ঔষধ  নিম্নশক্তিতে  খেলে  রোজ  দুই/তিন  বার  করে  খাবেন  আর  উচ্চ  শক্তিতে  খেলে  দশ/পনের/বিশ  দিন  পরপর  এক  মাত্রা  করে।

Collinsonia  canadensis :  ইহার  প্রধান  প্রধান  লক্ষণ  পেট  এবং  পায়খানার  রাস্তার  অসুখের  সাথে  মাথাব্যথা,  নাভী  এবং  তলপেটে  ব্যথা,  কোষ্টকাঠিন্য,  কোথানি,  অবসন্নতা,  আম  ও  রক্তযুক্ত  পায়খানা,  মাসিকের  সময়  পাইলস,  পায়খানার  রাস্তার  মাংস  বেরিয়ে  পড়া (Prolapse of the rectum),  রোগের  লক্ষণ  শরীরের  ওপর  থেকে  নীচের  দিকে  যায়,  হার্টের  সমস্যা  এবং  পাইলসের  রক্তক্ষরণ  ঘুরেফিরে  আসে,  বিভিন্ন  জয়েন্টের  বাতের  ব্যথা,  বুকে  ব্যথা  ইত্যাদি  ইত্যাদি।

Aloe  socotrina :  এলু  সকোট্রিনার  প্রধান  প্রধান  লক্ষণ  কোষ্টকাঠিন্য,  পেট,  তলপেট  এবং  মাথায়  রক্তসঞ্চয়,  অদল-বদল  করে  মাথাব্যথা  এবং  কোমরের  বাত,  শীতকালে  পাইলসের  উৎপাত  বৃদ্ধি  পায়,  দুরবলতা, খাওয়ার  পরপরই  পায়খানার  বেগ  হওয়া,  শক্ত  পায়খানা  (ঘুমের  মধ্যে)  নিজের  অজান্তেই  বিছানায়  পড়ে  থাকে,  পাইলেসের  চেহারা  দেখতে  আঙুরের  থোকার  মতো,  সারাক্ষণ  নীচের  দিকে  ঠেলামারা  ব্যথা,  রক্তক্ষরণ,  টনটনে  ব্যথা,  স্পর্শ  করা  যায়  না,  গরম,  ঠান্ডা  পানিতে  আরাম  লাগে  ইত্যাদি  ইত্যাদি।

Peoniaofficinalis :  পিওনিয়ার  প্রধান  প্রধান  লক্ষণ  হলো  পায়খানার  রাস্তায়  জ্বালাপোড়া,  চুলকানি,  ফোলে  যাওয়া,  (বিছানা-জুতার)  চাপ  থেকে  ঘা  হওয়া,  পায়খানার  রাস্তার  ফোড়া,  ফেটে  যাওয়া(fissure),  ভগন্দর (fistula),  রক্তনালী  ফোলে  যাওয়া (varicose veins),  ঘুমের  মধ্যে  দুঃস্বপ্ন  দেখা (nightmare),  নড়াচড়া-হাঁটা-স্পর্শে  রোগের  কষ্ট  বেড়ে  যাওয়া  ইত্যাদি  ইত্যাদি।

Nitricum  acidum :  নাইট্রিক  এসিডের  প্রধান  প্রধান  লক্ষণ  হলো  কোষ্টকাঠিন্য,  (শক্ত  হউক  বা  নরম)  পায়খানার  পরে  ব্যথা,  মেজ (wart),  প্রস্রাবের  গন্ধ  গরুর  প্রস্রাবের  মতো (খুবই  কড়া),  আবহাওয়া  পরিবর্তন  হলেই  অসুস্থ  হয়ে  পড়ে,  শরীরের  ছিদ্রযুক্ত  স্থানের  ক্ষত,খিটখিটে  মেজাজ,  ঘনঘন  ডায়েরিয়ায়  ভোগে,  চোখের  নালী  ক্ষত,  রাতের  বেলা  হাড়ের  ব্যথা,  হাড়ের  ক্ষত,  যে-কোন  ঘা/ক্ষত  সহজে  সারতে  চায়  না,  শরীরে  পানির  পরিমাণ  বেশী  ইত্যাদি  ইত্যাদি।

Muriaticum  acidum :  মিউরিয়েটিক  এসিডের  প্রধান  প্রধান  লক্ষণ  হলো  কান্ডজ্ঞান  লোপকারী  মাথাব্যথা,  চোখে  অন্ধকার  এবং  উল্টাপাল্টা  দেখা,  অনিচ্ছাকৃতভাবে  পায়খানা-প্রস্রাব  বেরিয়ে  যাওয়া,  প্যারালাইসিস,  পাইলসে  বা  পায়খানার  রাস্তায়  জ্বালাপোড়া,  মাঝারি  বা  মারাত্মক  ধরনের  ইনফেকশান,  পূজঁ-নিঃশ্বাস-শরীরের  গন্ধ  সবই  দূর্গন্ধযুক্ত,  পাইলস  দেখতে  আঙুরের  থোকার  মতো,  পিঙল  বর্ণের,  স্পর্শ  করলে  জ্বালা  করে,  কোথানি  দিলে  আলিশ  বেরিয়ে  যায়,  জিহ্বায়  ইনফেকশান,  কানপচাঁ  ইত্যাদি  ইত্যাদি।

Sepia officinalis :  সিপিয়ার  প্রধান  প্রধান  লক্ষণ  হলো  পেশা  এবং  পরিবারের  লোকজনদের  প্রতিও  উদাসীনতা,  রোগের  গতি  শরীরের  নীচে  থেকে  উপরের  দিকে,  রোগী  সবর্দা  শীতে  কাঁপতে  থাকে,  পেটের  ভিতরে  চাকার  মতো  কিছু  একটা  নড়াচড়া  করছে  মনে  হওয়া,  পাইলস,  পায়খানার  রাস্তা  বা  জরায়ু  ঝুলে  পড়া (prolapse),  খাওয়া-দাওয়া  ভালো  লাগে  না,  পায়খানার  রাস্তা  ভারী  মনে  হয়,  শিশুরা  ঘুমানোর  সাথে  সাথেই  বিছানায়  প্রস্রাব  করে  দেয়,  মুখের  মেছতা (Chloasma),  পুরুষাঙ্গের  মাথার  চারদিকে  গোটা (condylomata),  ঘনঘন  গর্ভপাত (abortion),  যৌনাঙ্গে  এবং  পায়খানার  রাস্তায়  ভীষণ  চুলকানি,  দীর্ঘদিনের  পুরনো  সর্দি,  অল্পতেই  অজ্ঞান  হয়ে  পড়ে,  দুধ  হজম  করতে  পারে  না,  স্বভাবে  কৃপন-লোভী,  একলা  থাকতে  ভয়  পায়  ইত্যাদি ।সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পেতে হলে জানতে হবে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ/নির্দেশনা ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা  উচিত নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *